আমার বাবা কোন ছবি নাই আমাদের কাছে।কিন্ত তিনি আমাদের মন-মগজে গেঁথে আছেন। থাকবেন আজীবন।বাবার কাছে থেকে প্রথম পড়েছিলাম মদন মোহন তর্কালঙ্কারের শিশু শিক্ষা বইয়ে অ আ ই ঈ। তাঁর হাত ধরেই স্কুলে গিয়েছি প্রথম ।বাবার একটা গুণ সব সময় আমাকে মুগ্ধ করে। তথন তিনি আমার মাকে বকা দিতেন নাহ। বাইরে থেকে এসে জামাটা খুলে মায়ের হাতে দিতেন।মা আজ বয়সের ভারে আর বাবার শোকে মূহ্য।তারপর ও শুকরিয়া-মা ভালো আছেন।
![]() |
| লেখক: মানিক মুনতাসির |
১৯৯২-৯৩ সালের কথা। একটি রেডলিফ কলম কিনতে চেয়েছিলাম। বাবা বললেন,এটা ত দ্বিতীয় সাময়িক পরীক্ষা। এটাতে ভালো করলে বার্ষিক পরীক্ষায় কিনে দিব। সে সময় কলমটা খুব লোভনীয় ছিল। স্কুলের স্যারেরা ব্যবহার করতেন সাইন করার জন্য।আমাদের বাংলা পড়াতেন ক্ষিরোদ স্যার। ওই স্যারের কাছে দেখতাম কলমটা সব সময়। বার্ষিক পরীক্ষায় তৃতীয় হলাম। প্রথম হলো বর্ণালি (এখন কোথায় আছে জানি নাহ্)। বাবা কলমও কিনে দিলেন।কিন্তু পরের বছর সে স্থান হারিয়ে সপ্তম হলাম। আমার স্থানে চলে এলো লুনা রাণী। এখন সে গৃহিনী। বাবা এ কথা শুনার পর বললেন তুমি মেয়েদের কাছে হেরে যাও। তাদের সঙ্গে প্রতিযোগিতা। এটা ভালো। শত্রু হবে কম। কিন্তু অবাক ব্যাপার হলো ,রেজাল্ট খারাপ হওয়ার স্বত্তেও তিনি বকা দিলেন না।

0 মন্তব্যসমূহ