একটা নিউজের কাজে ফোন করলাম পররাষ্টমন্ত্রীকে । সালাম দিয়ে কেমন আছেন জানতে চাইলে হেসে জবাব দিলেন,ভালো আছি। বল্লাম যাক ,ভালো আছেন জেনে ভালো লাগল। কারল এখন ত ভালো থাকাটা বেশ কঠিন। তিনি আমার কথা সহকজভাবে নিলেন না।একটু রাগ করলেন। বললেন এভাবে দেখবেন না।মানুষের মধ্যে প্যানিক তৈরী হয়। আপনি দেখেন,করোনায় আমাদের কতজন মারা যাচ্ছে,হিসাব করেন।সড়ক দূর্ঘটনায় প্রতিদিন কতজন মারা যায়।আর ন্যাচরাল ডেথ হয় কতজনের। আমি তাঁর এসব কথার সঙ্গে হ্যাঁ-হুঁ করলাম। কারণ আমার ত কমেন্টস পেতে হবে। যাক ,মূল বিষয়ে কথা শেষ করে হাসিমুখে রেখে দিলাম ফোন।।আমি অবশ্যই তাঁর সংঙ্গে একমত।
![]() |
| লেখক: মানিক মুনতাসির জন্ম ১২ এপ্রিল ১৯৮০ তারিখে ঠাকুরগাঁও জেলার পীরগঞ্জ থানার সৈয়দপুর গ্রামে। |
আমার উপলব্ধি: পরশু (১২ মে)থেকে জ্বর তাই ডাক্তারের পরামর্শ আজ ১৪ মে দুপুরে সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে গেলাম-এলাম। রাস্তায় যা দেখলাম তাতে দেখলাম পাবলিক বাস ছাড়া সবই ছিল। শান্তিনগর কাকরাইলে জ্যাম ও পেলাম। এটা সত্য যে জীবিকার তাগিদে মানুষ ঘর থেকে বেরোতে বাধ্য হচেছ। কিন্তুু মানুষ অকাজে ঘুরছে। শফিং করছে।হ্যাঁ,সবই তো ডাশ আছে। জীবন ত আর থেমে থাকতে পারে না। কোথাও কোথাও বিয়ে হচ্ছে।এমনকি করোনা চিকিৎসা ক্রেন্দ্রে তরুণ তরুনী প্রেমে ও পড়ছে। পরে আবার বিয়েও করছে।ক্লাস েএইটে পড়ুয়া মেয়ে ৬৫ বছরের বৃদ্ধকে বিয়ে করেছে। তাহলে কি দাঁড়াল?কোনটা থেমে আছে?
ফিরে আসি মন্ত্রীর কথায়: সড়কে মানুষ মরছে । সেটা নিশ্চয় েএকটা বড় সমস্যা।ন্যাচরাল ডেথের ওপরতো কারো হাত নাই । থাকার কথাও নয়। তবে বর্তমান কভিড -১৯ পরিস্থিতে আমরা সতর্ক সেটাই দেখার বিষয়।আমরা পারিনী প্রবাসীদের ম্যানেজম্যান্ট করতে।পেরেছি কি হাসপাতালের ব্যাবস্থাপনা ঠিক করতে?টেস্ট করা হচেছ,বেশ ভালো। রেজাল্ট পেতে ভোগান্তি তো আছেই।একবার নেগেটিভ পরেরবার পজেটিভ। আর খোদ সরতকারি কর্মকর্তারাও কাঙ্কিত স্বাস্ব্যসেবা পাচ্ছেন না।হাসপাতালের দ্বারে ঘুরে মারা যাচ্ছেন।উপসর্গ নিয়েও প্রতিদিন মানুষ মারা যাচ্ছে।
কথা হচ্ছে,আমেরিকা-ইউরোপে তো হাজার হাজারে মরছে।আমাদের অবস্থা তাদের থেকে অবশ্যই ভালো। হয়তো আরো ভালো থাকতে পারতাম যদি চুরি বন্ধ হতো । বানিজ্য নয়, স্বাস্থ্যসেবাখাতে যদি মনোভাব জাগাতে পারতাম । তারপরও ভালো আছি। আসলে কি ভালো আছি?
আমি (১৩ মে) ৩৩৩ -এ ফোন ধরে আমার অবস্থার কথা বল্লাম। ওপার থেকে বল্লেন বাসাই আইসোলেশনে থাকুন।জানতে চাইলাম টেস্ট করাব কি না। নিরুৎসাহ করলেন।
বাহঃ টেস্টই করাব নাহ। তাহলে আইশোলেশন কেন?বরং ওষুধ বাতলে দিলেন। তাও যে ভাল ওষুধ ভাতলে দিয়েছেন । আমি অবশ্যই সন্তুষ্ট এ সেবায়।কেননা মাঘের শীতে ছেঁড়া কাথাঁও আশীর্বাদ।
এতকিছুর পর স্বস্তি হলো:আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। গবেষণা হচ্ছে।কভিড-১৯ এর জিনোম সিকোয়েন্স আবিস্কার করছি।টিকা ট্রায়ালে যাচ্ছি। ওষুধ তৈরি করছি। করোনা হয়তো নিয়ন্ত্রন করা দূরহ। কিন্তুৃ চেষ্টা করতে পারি । হ্যাঁ তা তো করছি। নিম্নমানের মাস্ক আর পিপিই দিয়ে ডাক্তারদের সংক্রমিত করছি।
ঝুঁকি নিয়ে কাজ করে সাংবাদিকরা দলে দলে আক্রান্ত হচ্ছি। হাসপাতালে চিকিৎসা নাই। ডাক্তার থাকলে ও ডিউটিতে নাই।নার্স থাকলে ট্রলি নাই। উল্টো চিত্র ও চোখে পড়ছে। জীবন বাজি রেখে কাজ করছেন ডাক্তার-নার্স।
ভাই!আসুন সচেতন হই। মনে করছেন আপনি আক্রান্ত হবেন না। হলেও মরবেন না।ঠিক আছে,মানলাম । সেটাই হবে। কিন্তুু ক্ষতি তো হবে। আপনার জন্য একজন আক্রান্ত হতে পারে। হচ্ছে।
এরই মধ্যে েদেশের ১৫-২০টি জেলা ঘূর্ণিঝড়ের কবলে পড়ে লন্ডভন্ড হলো। অসংখ্য মানুষ খোলা আকাশের নিচে আর কোমার পানিতে পরিবার পরিজন নিয়ে যুদ্ধ করছে।জীবনযুদ্ধ।
আমার ছেলে কদিন আগে বল্ল ,আচ্ছা বাবা! একটা বোম্ব কিংবা ঐ টাইপের কিছু আবিস্কার করা যায় না?
যেটা করো না ভাইরাসকে ধংস করে দিবে । বল্লাম ,সময় লাগবে বাবা। কিন্তু ু সে আমাকে কাগজে কিছু এঁকে এনে আমাকে দিল,তাতে দেখা যাচ্ছে পৃথিবীটা যুদ্ধ করছে করোনাভাইরাসের সাথে।বিশালদেহী এক দৈত্য তলোয়ার দিয়ে করোনাভাইরাস কে কেটে ফেলছে।আসুন আল্লাহকে স্বরণ করি।সাবধানে থাকি।

0 মন্তব্যসমূহ